০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে এসিড–সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পাশে নতুন উদ্যোগ

 

এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী জীবনে ফিরিয়ে আনতে ময়মনসিংহে নতুন একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন এসিড সারভাইভারকে মানসিক কাউন্সেলিং দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩২ জনকে ব্লক-বাটিক ও সেলাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থাপন করা হবে প্রেশার গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র।

 

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘এসিড এবং অন্যান্য সহিংসতায় দগ্ধ সারভাইভারদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, এসিড ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের শুধু চিকিৎসা নয়, মানসিক পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্টের অর্থায়নে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন ও স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমন সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০ জন এসিড সারভাইভারও অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, প্রকল্পটির লক্ষ্য কেবল মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া নয়; বরং দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর মাধ্যমে এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এসিড ও সহিংসতার শিকার মানুষের পুনর্বাসন, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

 

প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় নিবন্ধিত ১৩৯ জন এসিড সারভাইভারের মধ্যে থেকে ১০০ জনকে নিয়মিত মানসিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩২ জনকে ব্লক-বাটিক ও সেলাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একটি প্রেশার গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই বিশেষ পোশাক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলে রোগীরা সহজে ও তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন।

 

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মনসুর আলম (চন্দন) সারভাইভারদের জন্য সেলাই মেশিন দেওয়ার ঘোষণা দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজিম উদ্দিন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজনীন সুলতানা, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলমসহ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে এসিড–সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পাশে নতুন উদ্যোগ

কেন্দুয়ায় ৭ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

15 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে এসিড–সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পাশে নতুন উদ্যোগ

পোষ্টের সময় : ১২:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী জীবনে ফিরিয়ে আনতে ময়মনসিংহে নতুন একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন এসিড সারভাইভারকে মানসিক কাউন্সেলিং দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩২ জনকে ব্লক-বাটিক ও সেলাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থাপন করা হবে প্রেশার গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র।

 

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘এসিড এবং অন্যান্য সহিংসতায় দগ্ধ সারভাইভারদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, এসিড ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের শুধু চিকিৎসা নয়, মানসিক পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্টের অর্থায়নে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন ও স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমন সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০ জন এসিড সারভাইভারও অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, প্রকল্পটির লক্ষ্য কেবল মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া নয়; বরং দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর মাধ্যমে এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এসিড ও সহিংসতার শিকার মানুষের পুনর্বাসন, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

 

প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় নিবন্ধিত ১৩৯ জন এসিড সারভাইভারের মধ্যে থেকে ১০০ জনকে নিয়মিত মানসিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩২ জনকে ব্লক-বাটিক ও সেলাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একটি প্রেশার গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই বিশেষ পোশাক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলে রোগীরা সহজে ও তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন।

 

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মনসুর আলম (চন্দন) সারভাইভারদের জন্য সেলাই মেশিন দেওয়ার ঘোষণা দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজিম উদ্দিন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজনীন সুলতানা, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলমসহ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

 

Share this news as a Photo Card