০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাওন হত্যার ঘটনায় উত্তাল ময়মনসিংহ, এসপি কার্যালয়ে বিক্ষোভ

 

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৪) নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নগরী। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাত ৮টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

 

এর আগে নগরীর আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে নিহত শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওনের জানাজার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

নিহতের জানাজায় অংশ নেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম. এ হান্নান খানসহ কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারাও এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠী সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেলে নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নিহত নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদেরকে ৭ জনের একটি ছিনতাইকারী দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। এ সময় নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে তাদেরকে মারধর করে ছিনতাইকারীরা। এক পর্যায়ে নূরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে ছিনতাইকারিরা ফের মারধর শুরু করলে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাদের ধাওয়া করলে মঞ্জুরুল নদে নেমে বালু শ্রমিকের কাছে আশ্রয় নেয়। এ সময় বালু শ্রমিকরা বিষয়টি বুজতে পেরে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে নূরুল্লাহ শাওন নিখোঁজ ছিল। এরপর গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদের চরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

 

এ ঘটনায় নিহত শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে বলেও জানান ওসি মো. নাজমুস সাকিব।

 

প্রসঙ্গত, নিহত নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আগামী ৫ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল হবে: প্রধানমন্ত্রী

শেখ মুজিবের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

15 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শাওন হত্যার ঘটনায় উত্তাল ময়মনসিংহ, এসপি কার্যালয়ে বিক্ষোভ

পোষ্টের সময় : ০৬:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৪) নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নগরী। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাত ৮টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

 

এর আগে নগরীর আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে নিহত শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওনের জানাজার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

নিহতের জানাজায় অংশ নেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম. এ হান্নান খানসহ কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারাও এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠী সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেলে নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নিহত নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদেরকে ৭ জনের একটি ছিনতাইকারী দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। এ সময় নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে তাদেরকে মারধর করে ছিনতাইকারীরা। এক পর্যায়ে নূরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে ছিনতাইকারিরা ফের মারধর শুরু করলে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাদের ধাওয়া করলে মঞ্জুরুল নদে নেমে বালু শ্রমিকের কাছে আশ্রয় নেয়। এ সময় বালু শ্রমিকরা বিষয়টি বুজতে পেরে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে নূরুল্লাহ শাওন নিখোঁজ ছিল। এরপর গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদের চরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

 

এ ঘটনায় নিহত শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে বলেও জানান ওসি মো. নাজমুস সাকিব।

 

প্রসঙ্গত, নিহত নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

 

Share this news as a Photo Card