০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার এই নীতিগুলোকে কেবল তার ‘ওন মোরালিটি’ বা ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।’

 

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কি না—তখন ট্রাম্প বলেন, তিনি তা করেন, তবে এটি ‘আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী তার ওপর নির্ভর করে।’ ট্রাম্প তার বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তি ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রদর্শন করেছেন।

 

গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাস এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন সেনারা শেষ পর্যন্ত কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ করে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ‘যেকোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি’ নিষিদ্ধ করে।

 

ভেনেজুয়েলায় এই হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে তিনি উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ লাভ করেছিলেন।

 

হামলার পরপরই ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসন বলেছে যে তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে নীতি ‘নির্দেশ’ দেবে এবং মার্কিন দাবি অমান্য করা হলে বারবার ‘দ্বিতীয় দফার’ সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।

 

গত রোববার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রদ্রিগেজ সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি যদি সঠিক কাজটি না করেন, তবে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য।’

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর হামলা চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণাও জোরদার করেছেন। এর আগে গত জুন মাসে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বিনা উস্কানিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে যোগ দেন এবং দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন।

 

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে তার স্বার্থ রক্ষা করতে ‘নিঃসংকোচে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। সোমবার সিএনএনকে মিলার বলেন, ‘আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।’

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন হলো এমন কিছু নিয়ম ও রীতির সমষ্টি যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনা করে। এর মধ্যে জাতিসংঘের কনভেনশন এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত।

 

বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া মার্কিন বিবৃতিগুলো ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

 

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কাজী নজরুলের সমাধি ফলকে লিখিত কাব্যাংশের অনুপ্রেরণা যে চিঠিতে

দল বা প্রশাসনের কেউ অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: প্রিন্স

01 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

পোষ্টের সময় : ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার এই নীতিগুলোকে কেবল তার ‘ওন মোরালিটি’ বা ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।’

 

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কি না—তখন ট্রাম্প বলেন, তিনি তা করেন, তবে এটি ‘আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী তার ওপর নির্ভর করে।’ ট্রাম্প তার বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তি ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রদর্শন করেছেন।

 

গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাস এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন সেনারা শেষ পর্যন্ত কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ করে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ‘যেকোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি’ নিষিদ্ধ করে।

 

ভেনেজুয়েলায় এই হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে তিনি উদ্বোধনী ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ লাভ করেছিলেন।

 

হামলার পরপরই ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসন বলেছে যে তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে নীতি ‘নির্দেশ’ দেবে এবং মার্কিন দাবি অমান্য করা হলে বারবার ‘দ্বিতীয় দফার’ সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।

 

গত রোববার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রদ্রিগেজ সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি যদি সঠিক কাজটি না করেন, তবে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য।’

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর হামলা চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণাও জোরদার করেছেন। এর আগে গত জুন মাসে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বিনা উস্কানিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে যোগ দেন এবং দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন।

 

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে তার স্বার্থ রক্ষা করতে ‘নিঃসংকোচে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। সোমবার সিএনএনকে মিলার বলেন, ‘আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।’

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন হলো এমন কিছু নিয়ম ও রীতির সমষ্টি যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনা করে। এর মধ্যে জাতিসংঘের কনভেনশন এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত।

 

বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া মার্কিন বিবৃতিগুলো ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

 

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

 

Share this news as a Photo Card