০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরগঞ্জে ১১ জনকে পিটিয়ে জখম করল যুবক, গাছে বাঁধে এলাকাবাসী

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ১১ জনকে জখম করেছে মো. আব্দুল বাতেন(২৩) নামে এক যুবক। আহত ১১ জনের মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আশঙ্কাজনক একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। যুবকের এমন কান্ডে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার শিকল ও রশ্মি দিয়ে আমগাছের সাথে বাতেনকে বেঁধে তাতে তালা লাগিয়ে রাখে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। বাতেন ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুল লতিফের ছেলে।

 

গতকাল (২৭ অক্টোবর) বিকালে চন্ডিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে,অভিযুক্ত যুবক আব্দুল বাতেনকে আম গাছের সাথে লোহার শিকল ও রশ্মি দিয়ে বেঁধে তাতে তালা লাগানো হয়েছে। খবর পেয়ে এদিন সন্ধ্যায় যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

 

যুবকের পিটুনিতে আহতরা হলেন- শহিদুল্লাহ ফকির(৬০),রমজান আলী(৬৫), লিটন মিয়া(৪৫),লিটনের মা জহুরা খাতুন(৭০),হোসেন আলী(৬০),হোসেন আলীর মেয়ে সুরাইয়া খাতুন(১৫),শমলা খাতুন(৫৫),মতিন ডাক্তার(৬৫),নজরুল ইসলাম(৫০)।

 

স্থানীয়রা জানান,আহতদের মধ্যে শহিদুল্লাহ ফকিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসাকরা তাকে ঢাকায় রেফার করে। এছাড়া হোসেন আলী,সুরাইয়া,জহুরা খাতুন ও রমজান আলী ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত সবাই চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

 

সরেজমিন পরিদর্শনকালে আহত মতিন ডাক্তার(৬৩) ও স্থানীয় আব্দুল হাই(৬৫)সহ অন্তত আরও ১০ জন বাসিন্দা বলেন, ‘বাতেন গভীর রাতে হঠাৎ করে তার চাচাতো বোন সুরাইয়ার ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটাতে থাকে। সুরাইয়ার চিৎকার শুনে তার বাবা ও পাশেপাশের লোকজন ছুটে গেলে একেএকে সবাইকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বাতেন। আমরা প্রশাসনের কাছে তার বিচার চাই।

 

বাতেন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী কি না জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানান,বাতেন কোন পাগল বা মানসিক রোগী না। মাস-দুইয়েক আগে মাদক মামলায় জেল কেটে জামিনে আসে বাতেন। জামিনের আসার পর সে ভালোই চলাফেরা করছিল। গতকাল হঠাৎ সে এমন কান্ড ঘটিয়ে বসে। আতঙ্কে স্থানীয়রা বাতেনকে গাছে বেঁধে রাখে।

 

কেন এতোগুলো মানুষকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে গাছে বাঁধা বাতেন জানায়, যাদের আমি মেরেছি এরা সমাজটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি সমাজের ভালোর জন্যই এই কাজ করেছি। এসময় বাতেনকে আরও অনেক এলোমেলো কথা বলতে শোনা গেছে।

 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আআব্দুল মোতালেব বলেন,বাতেন পাগল কি না আমি সঠিক বলতে পারছি না। তবে সে যে কাজটি করেছে তা খুবই মর্মান্তিক। এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসী যে সিদ্ধান্ত নিবে, আমি তাদের পক্ষে আছি।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,’খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাতেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহের মানসিক একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মানসিক উন্নতির পর ভোক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বকশীগঞ্জে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি: ফরিদপুরে নিখোঁজ যুবক মুক্তাগাছায় উদ্ধার

20 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ঈশ্বরগঞ্জে ১১ জনকে পিটিয়ে জখম করল যুবক, গাছে বাঁধে এলাকাবাসী

পোষ্টের সময় : ০৯:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ১১ জনকে জখম করেছে মো. আব্দুল বাতেন(২৩) নামে এক যুবক। আহত ১১ জনের মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আশঙ্কাজনক একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। যুবকের এমন কান্ডে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার শিকল ও রশ্মি দিয়ে আমগাছের সাথে বাতেনকে বেঁধে তাতে তালা লাগিয়ে রাখে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। বাতেন ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুল লতিফের ছেলে।

 

গতকাল (২৭ অক্টোবর) বিকালে চন্ডিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে,অভিযুক্ত যুবক আব্দুল বাতেনকে আম গাছের সাথে লোহার শিকল ও রশ্মি দিয়ে বেঁধে তাতে তালা লাগানো হয়েছে। খবর পেয়ে এদিন সন্ধ্যায় যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

 

যুবকের পিটুনিতে আহতরা হলেন- শহিদুল্লাহ ফকির(৬০),রমজান আলী(৬৫), লিটন মিয়া(৪৫),লিটনের মা জহুরা খাতুন(৭০),হোসেন আলী(৬০),হোসেন আলীর মেয়ে সুরাইয়া খাতুন(১৫),শমলা খাতুন(৫৫),মতিন ডাক্তার(৬৫),নজরুল ইসলাম(৫০)।

 

স্থানীয়রা জানান,আহতদের মধ্যে শহিদুল্লাহ ফকিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসাকরা তাকে ঢাকায় রেফার করে। এছাড়া হোসেন আলী,সুরাইয়া,জহুরা খাতুন ও রমজান আলী ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত সবাই চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

 

সরেজমিন পরিদর্শনকালে আহত মতিন ডাক্তার(৬৩) ও স্থানীয় আব্দুল হাই(৬৫)সহ অন্তত আরও ১০ জন বাসিন্দা বলেন, ‘বাতেন গভীর রাতে হঠাৎ করে তার চাচাতো বোন সুরাইয়ার ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটাতে থাকে। সুরাইয়ার চিৎকার শুনে তার বাবা ও পাশেপাশের লোকজন ছুটে গেলে একেএকে সবাইকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বাতেন। আমরা প্রশাসনের কাছে তার বিচার চাই।

 

বাতেন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী কি না জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানান,বাতেন কোন পাগল বা মানসিক রোগী না। মাস-দুইয়েক আগে মাদক মামলায় জেল কেটে জামিনে আসে বাতেন। জামিনের আসার পর সে ভালোই চলাফেরা করছিল। গতকাল হঠাৎ সে এমন কান্ড ঘটিয়ে বসে। আতঙ্কে স্থানীয়রা বাতেনকে গাছে বেঁধে রাখে।

 

কেন এতোগুলো মানুষকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে গাছে বাঁধা বাতেন জানায়, যাদের আমি মেরেছি এরা সমাজটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি সমাজের ভালোর জন্যই এই কাজ করেছি। এসময় বাতেনকে আরও অনেক এলোমেলো কথা বলতে শোনা গেছে।

 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আআব্দুল মোতালেব বলেন,বাতেন পাগল কি না আমি সঠিক বলতে পারছি না। তবে সে যে কাজটি করেছে তা খুবই মর্মান্তিক। এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসী যে সিদ্ধান্ত নিবে, আমি তাদের পক্ষে আছি।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,’খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাতেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহের মানসিক একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মানসিক উন্নতির পর ভোক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card