যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটন জানায়, এ ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এটি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার অবৈধ ক্ষমতা সুসংহত করতে সহায়তা করছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, মিয়ানমারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল শুন লেই কোম্পানি লিমিটেড’ এবং এর দুই কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া থেকে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘কোমিড (Korea Mining Development Trading Corporation)’ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই তারা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই অবৈধ লেনদেন শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস ও দমননীতিকে উৎসাহিত করছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন আরও জানায়, এই অস্ত্রচুক্তির প্রতিটি ধাপ—অর্ডার গ্রহণ, পরিবহন ও আর্থিক লেনদেন—সুনির্দিষ্ট কিছু নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আর এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিল নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তারা। ফলে নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ককে আন্তর্জাতিকভাবে অচল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রসঙ্গত, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বারবার জাতিসংঘের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অপরদিকে, মিয়ানমারের সামরিক শাসন ইতোমধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের ওপরই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে। তবে এর ফলে মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার গোপন বাণিজ্য পুরোপুরি থেমে যাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























