সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার ঘোষণা দিলেও, শিক্ষক সমাজ এটিকে ‘অপর্যাপ্ত ও তামাশাসুলভ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এই অল্প পরিমাণ ভাতা বৃদ্ধি বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ নির্ধারণের—পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষকদের মধ্যে।
বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার যদি ১০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। তাঁরা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করছেন।
সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ। কিন্তু ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। সরকারকে শিক্ষকদের জীবনমান ও মর্যাদার কথা ভাবতে হবে।”
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সামান্য ভাতা বৃদ্ধি কেবল কাগুজে সান্ত্বনা, বাস্তব কোনো সুফল দিচ্ছে না। এ অবস্থায় তাঁরা সরকারের কাছে দ্রুত ভাতার হার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের এই ঘোষণায় শিক্ষা খাতের নানা মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলন শুরু হলে দেশের হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকার এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের রাজস্ব সীমাবদ্ধতা ও বাজেট কাঠামোর কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো বৃদ্ধি সম্ভব নয়, তবে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এমপিও শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হলে আগামী ১২ অক্টোবর ঢাকায় একটি ঐতিহাসিক জমায়েত দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকসমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের পর্যবেক্ষকরা।
স্টাফ রিপোর্টার 






















