০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাল খননের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন ত্রিশালের ইউএনও

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে উপজেলার বইলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৩ মে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পে মোট ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

 

প্রকল্পের আওতায় ঠনিভাঙা বিল থেকে শুরু হয়ে কাঠাল, বইলর, কানহর, হদ্দেরভিটা হয়ে বোকিবিল পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হয়। গত ২ মে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়। এ সময় খালের দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, পাড় বাঁধাই এবং দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

 

কাজ শেষে গত ১০ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন ও বিল পরিশোধের পর দেখা যায়, মোট ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়া হয়।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ১০০ মিটার খাল ১০ ফুট গভীর এবং ১৫ থেকে ২৩ ফুট প্রশস্ত করে খনন করা হয়েছে। খনন শেষে বৃষ্টির কারণে একাধিকবার পাড় বাঁধাই করতে হয়েছে। পরে খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “এই খালটি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে দখল ও ভরাট হয়ে এটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী গত ২৩ মে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পে ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালের প্রস্থ ভিন্ন হওয়ায় পুরো বরাদ্দের অর্থ প্রয়োজন হয়নি। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, কাজ শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং বাস্তবায়িত কাজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

গৌরীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল উপহার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রিন্সকে নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

26 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

খাল খননের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন ত্রিশালের ইউএনও

পোষ্টের সময় : ০৪:২৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে উপজেলার বইলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৩ মে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পে মোট ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

 

প্রকল্পের আওতায় ঠনিভাঙা বিল থেকে শুরু হয়ে কাঠাল, বইলর, কানহর, হদ্দেরভিটা হয়ে বোকিবিল পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হয়। গত ২ মে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়। এ সময় খালের দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, পাড় বাঁধাই এবং দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

 

কাজ শেষে গত ১০ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন ও বিল পরিশোধের পর দেখা যায়, মোট ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়া হয়।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ১০০ মিটার খাল ১০ ফুট গভীর এবং ১৫ থেকে ২৩ ফুট প্রশস্ত করে খনন করা হয়েছে। খনন শেষে বৃষ্টির কারণে একাধিকবার পাড় বাঁধাই করতে হয়েছে। পরে খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “এই খালটি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে দখল ও ভরাট হয়ে এটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী গত ২৩ মে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পে ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালের প্রস্থ ভিন্ন হওয়ায় পুরো বরাদ্দের অর্থ প্রয়োজন হয়নি। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, কাজ শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং বাস্তবায়িত কাজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

Share this news as a Photo Card