চট্টগ্রাম নগরের সাগরিকা এলাকায় আজ মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেললাইনে ঢুকে পড়া একটি পণ্যবোঝাই লরি চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা দিলে ইঞ্জিনসহ একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় লরির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শামসুল হাই (৬০)। তিনি পাহাড়তলীর দিদার কলোনির বাসিন্দা এবং স্থানীয় দোকানগুলোর নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করতেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টায় চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লরিটি হঠাৎ রেললাইনে ঢুকে সরাসরি ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা দেয়। এতে ইঞ্জিন ও একটি বগি উল্টে পড়ে এবং লরিটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ট্রেনের লোকোমাস্টার মনিরুল ইসলাম ও সহকারী লোকোমাস্টার আলমগীর আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি গেটম্যানের অবহেলার কারণে ঘটেছে। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার সময় গেট খোলা ছিল। সেই সুযোগে দ্রুতগামী লরি ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা দেয়।”
রেলকর্মীরা জানান, উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও কুমিল্লার লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ট্রেনের বাকি বগিগুলো ইতোমধ্যে সিজিপিওয়াই স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে লাইনে চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
দুর্ঘটনার পর নিহত শামসুল হাইয়ের লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, তাই রেল কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
স্টাফ রিপোর্টার 






















