বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হলো আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র। লেজার অস্ত্র থেকে শুরু করে স্টেলথ ফাইটার, পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও বিশাল আকারের আন্ডারওয়াটার ড্রোন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
সিএনএনজানিয়েছে, এক লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি এ মহড়া উপভোগ করেছে। দর্শকদের হাতে ছিল চীনের ছোট পতাকা, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশপ্রেম ও গর্ব প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা।
কুচকাওয়াজে অন্তত দুটি এয়ার ডিফেন্স লেজার দেখানো হয়— একটি যুদ্ধজাহাজে বসানোর জন্য এবং অন্যটি আট চাকার ট্রাকে স্থাপিত স্থলভিত্তিক সংস্করণ। এসব ডাইরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন গোলা–বারুদ ছাড়াই টার্গেট নিষ্ক্রিয় করতে পারে তাপ, ইলেকট্রনিক সিস্টেম নষ্ট করা বা সেন্সর অন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো সাশ্রয়ী এবং ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কার্যকর।
এ প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয় দুটি এক্সট্রা-লার্জ আন্ডারওয়াটার ড্রোন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের নৌবাহিনী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌ কর্মসূচির অধিকারী। এগুলো টর্পেডো বা মাইন বহন করতে পারে কিংবা শুধু গোয়েন্দা তৎপরতার জন্যও ব্যবহার হতে পারে।
প্রদর্শিত হয় নতুন ওয়াইজে-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছিল আরও কয়েকটি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর জন্য হুমকি হতে পারে। এছাড়া আকাশে ওড়ানো হয় স্টেলথ ফাইটার জে-৩৫, পারমাণবিক সক্ষম এইচ-৬ বোমারু বিমান ও শতাধিক হেলিকপ্টার।
সামরিক কুচকাওয়াজ উদ্বোধনকালে শি জিনপিং বলেন, ‘চীনা জাতি কখনও কারও হুমকিতে ভয় পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। চীনের মহান পুনর্জাগরণ এখন অপ্রতিরোধ্য। আমাদের বিশ্বমানের সেনাবাহিনী হবে, যা যুদ্ধ জিততে সক্ষম।’


























