ভারতের লাদাখ অঞ্চলে রাজ্যের মর্যাদা প্রদানের দাবি নিয়ে চলমান আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সোনাম ওয়াংচুক নামে একটি স্বনামধন্য অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, তিনি পুলিশের হাতে আটক হন। ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করে আসছেন এবং ২০১৮ সালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামোন মাগাসায় পুরস্কারও জিতেছেন।
ওয়াংচুকের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংস্থা ‘স্টুডেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ’কে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে। সরকারের অভিযোগ, সংস্থাটি বিদেশ থেকে অর্থ আনার মাধ্যমে স্থানীয় আন্দোলনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। যদিও ওয়াংচুক দাবি করেছেন, তার সংস্থা কখনও বিদেশ থেকে অর্থ আনে নি। তিনি জানিয়েছিলেন, তারা জাতিসংঘ, সুইস ও ইতালির বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লেনদেন করেছে এবং সব কর নিয়মিত প্রদান করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, ওয়াংচুক লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার ইস্যুতে অ্যাপেক্স বডি লেহ (এবিএল) ও কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (কেডিএ) সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। সরকার জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকলেও কিছু ব্যক্তি সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওয়াংচুক অনশন করছিলেন, যা চলাকালীন সময়ে লাদাখে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে; এতে চারজন নিহত ও ৫০ জন নিরাপত্তা কর্মীসহ বহু মানুষ আহত হন।
গ্রেপ্তারের পর ওয়াংচুককে তার গ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হলেও কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তার গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। লাদাখের সংস্কৃতি ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অবদানকে বিবেচনা করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























