০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকেন্দ্রিক ৯০ শতাংশ অপতথ্যই আসছে ভারত থেকে

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের এক ভয়াবহ ‘বন্যা’ দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

 

এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সুসংগঠিত অপপ্রচার বা ডিসইনফরমেশনের ৯০ শতাংশের বেশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ছড়ানো হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা অসংখ্য ভুয়া ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইতিপূর্বে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

 

এএফপির প্রতিবেদন বলছে, অপপ্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের দাবি। ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি পোস্ট করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট’-এর প্রধান রকিব নায়েক জানিয়েছেন, এই অপতথ্যের ৯০ শতাংশই ভারত থেকে তৈরি হয়েছে এবং বাকি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক থেকে ছড়ানো হয়েছে। অথচ গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটা ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ ছিল সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক।

 

নির্বাচনী মাঠের অন্যতম প্রধান দাবিদার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি ভারতে আইপিএল খেলা বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে হিন্দু মৌলবাদীদের তৈরি করা চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করার মতো পরিস্থিতিতেও গড়িয়েছে।

 

তবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ব্যাপক অপপ্রচারের পেছনে সরাসরি ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে চরমপন্থীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই বিশাল পরিমাণ অপতথ্য মোকাবিলায় মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) এর সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ মনিটরিং ইউনিট গঠন করেছে।

 

তবে কমিশনের মুখপাত্র রুহুল আমিন মল্লিক স্বীকার করেছেন যে, অনলাইন জগতের এই বিশাল স্রোত সামলানো একটি দুঃসাধ্য কাজ। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও তথ্য যাচাই করার সচেতনতা অনেকের মধ্যেই কম। ফলে এআই-নির্ভর এই ভুয়া দৃশ্যগুলো সাধারণ ভোটারদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করার বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আগামী ৫ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল হবে: প্রধানমন্ত্রী

শেখ মুজিবের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

15 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নির্বাচনকেন্দ্রিক ৯০ শতাংশ অপতথ্যই আসছে ভারত থেকে

পোষ্টের সময় : ০৪:৫১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের এক ভয়াবহ ‘বন্যা’ দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

 

এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সুসংগঠিত অপপ্রচার বা ডিসইনফরমেশনের ৯০ শতাংশের বেশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ছড়ানো হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা অসংখ্য ভুয়া ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইতিপূর্বে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

 

এএফপির প্রতিবেদন বলছে, অপপ্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের দাবি। ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি পোস্ট করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট’-এর প্রধান রকিব নায়েক জানিয়েছেন, এই অপতথ্যের ৯০ শতাংশই ভারত থেকে তৈরি হয়েছে এবং বাকি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক থেকে ছড়ানো হয়েছে। অথচ গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটা ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ ছিল সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক।

 

নির্বাচনী মাঠের অন্যতম প্রধান দাবিদার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি ভারতে আইপিএল খেলা বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে হিন্দু মৌলবাদীদের তৈরি করা চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করার মতো পরিস্থিতিতেও গড়িয়েছে।

 

তবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ব্যাপক অপপ্রচারের পেছনে সরাসরি ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে চরমপন্থীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই বিশাল পরিমাণ অপতথ্য মোকাবিলায় মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) এর সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ মনিটরিং ইউনিট গঠন করেছে।

 

তবে কমিশনের মুখপাত্র রুহুল আমিন মল্লিক স্বীকার করেছেন যে, অনলাইন জগতের এই বিশাল স্রোত সামলানো একটি দুঃসাধ্য কাজ। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও তথ্য যাচাই করার সচেতনতা অনেকের মধ্যেই কম। ফলে এআই-নির্ভর এই ভুয়া দৃশ্যগুলো সাধারণ ভোটারদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করার বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

 

Share this news as a Photo Card