রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট সতর্কতা দিয়েছেন যে ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা মস্কো মোটেই হালকাভাবে নেবে না। দুই নেতার মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে পুতিন কঠোর ভাষায় বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধের ময়দানে বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না, বরং দুই দেশের সম্পর্ক ও চলমান শান্তি আলোচনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ক্রেমলিন জানায়, ফোনালাপটি ছিল খোলামেলা, ফলপ্রসূ ও গভীর কূটনৈতিক পর্যালোচনায় পূর্ণ। আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে মুখোমুখি বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মস্কো দাবি করেছে, তারা এখনো পুরো ফ্রন্টলাইনে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ পুনরায় খুঁজে দেখতে আগ্রহী—তবে সেটি নির্ভর করছে ইউক্রেন সংঘাত কত দ্রুত সমাধান হয় তার ওপর। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে দুই নেতার সম্ভাব্য সামনাসামনি বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের নাম উঠে এসেছে, যা একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে স্পষ্ট বার্তা—রাশিয়া কোনো আগ্রাসী সামরিক সহায়তাকে চুপচাপ সহ্য করবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইঙ্গিত একটি নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে।
তবে ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ইস্যু ঘিরে বিশ্বে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা মহলে ধারণা, এই অস্ত্র সরবরাহ যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু রাশিয়ার মতে, তা কেবল পরিস্থিতি আরও জটিল করবে এবং শান্তি আলোচনার পথ আরও কঠিন করে তুলবে।
সবশেষে, পুতিনের স্পষ্ট বার্তা—“রাশিয়ার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়।”
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















