সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুদানকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গুতেরেস বলেন, সুদানের কাদুগ্লিতে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার ভাষায়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর এ ধরনের আক্রমণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের কর্মী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। এ ধরনের হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
এদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান।
শনিবার সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগ্লিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা, সৈনিক শান্ত মণ্ডল, মেস ওয়েটার জাহাঙ্গীর আলম এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদানের সেনাবাহিনী ও সরকার এক বিবৃতিতে এ হামলার জন্য আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে দায়ী করেছে। তবে এখন পর্যন্ত আরএসএফ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে সুদানে চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















