০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ে করে বাসর ঘর করতে দিলেন বন্ধুকে, অত:পর…

 

নেত্রকোনার মদনে বিয়ে করে বাসর ঘর করতে দিলেন বন্ধকে। তবে তবে নববধ দুই বন্ধুর এমন প্রতিশ্রুতি মেনে না নিয়ে ক্ষোভে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে।

 

নববধু ও বরের বাবার বাড়ি সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আবু ঢানের ছেলে কেন্তু নিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে ২৫. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে পাশের ইউনিয়নে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হয়। কেন্তু মিয়া নববধু বাড়িতে এনে বন্ধন দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে নিজে বাসর না করে নিজ ঘরে বাসর ঘর কাটানোর জন্য বন্ধু শরিফকে পাঠায়। এতে বাধাঁ হয়ে দাড়াঁয় তার নববধু। বিষয়টি প্রথমে পারিবারিক ভাবে গড়ালেও বর্তমানে এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহলেন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই নববধু লোকলজ্জায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, গত কোরবানী ঈদে পানিবারিভাবে শরিফ নায়েকপুর ইউনিয়নে বিয়ে করে। দুই বন্ধুন দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেন্তু মিয়া শরিফের নববধুর সাথে বাসর করতে দেয়। তবে কেন্তু মিয়ার স্ত্রী বাসর ঘর করতে বাঁধা দেয়ায় শরিফ আর বাসর ঘর করতে পারেনি। শরিফ বাসর করতে না পাড়ায় দুই বন্ধুর মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

 

এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবান নোয়াগাঁও কেত্ত মিয়ান গ্রামের বাড়ি ও শরিফ মিয়ার গ্রামের বাড়িতে গেলে বৃদ্ধ দুই মাকে পাওয়া যায়।

 

এ ব্যাপার শরিফ মিয়ার মা মানেদা আক্তার জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

তবে তারাদুই জনেই ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। তারা বিয়ের আগে একট সাথে সময় কাটাতো আমায় ছেলে বিয়ে করার পর বলেছি। কেন্তু মিয়া বেশি আমার বাড়িতে আসবা না।

 

কেন্তু মিয়া তার মোবাইল ফোনে জানান, , বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। তবে দুই বন্ধুর এমন প্রতিশ্রুতির বিষয় জানতে চাইলে ফোনটি কেটে সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া জানান, ঘটনাটি সত্য। এ বিষয়ে গ্রাম বৈঠক বসা হয়ে ছিল। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।

 

প্রতিবেশি চাচা আব্দুল গণি বলেন, বাবা কিতা কইতাম। এমন সমাজ বিরোধী ঘটনা জীবনেও শুনি নাই। বউটি এখন ঢলে গেছে। জানি না আর আসবে কিনা। বিষয়টি খুবই দুঃখ ডানক।

 

তবে কেন্তু মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী জাফরিন আক্তার বলেন, শরিফ মিয়ান বউ যদি বাসর রাতে বাঁধা দিত তাহলে ঘটনা ঘটত না। এখন তিন পরিবারকে সমাজের মানুষ দিক্ষা দিচ্ছে। আমনা খুবই লজ্জিত। মানুষের নিকট মুখ দেখাতে পারি না।

 

এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি শামতুল আলম শাহ বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। তবে নববধুন পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বকশীগঞ্জে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি: ফরিদপুরে নিখোঁজ যুবক মুক্তাগাছায় উদ্ধার

20 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বিয়ে করে বাসর ঘর করতে দিলেন বন্ধুকে, অত:পর…

পোষ্টের সময় : ১১:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

 

নেত্রকোনার মদনে বিয়ে করে বাসর ঘর করতে দিলেন বন্ধকে। তবে তবে নববধ দুই বন্ধুর এমন প্রতিশ্রুতি মেনে না নিয়ে ক্ষোভে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে।

 

নববধু ও বরের বাবার বাড়ি সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আবু ঢানের ছেলে কেন্তু নিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে ২৫. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে পাশের ইউনিয়নে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হয়। কেন্তু মিয়া নববধু বাড়িতে এনে বন্ধন দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে নিজে বাসর না করে নিজ ঘরে বাসর ঘর কাটানোর জন্য বন্ধু শরিফকে পাঠায়। এতে বাধাঁ হয়ে দাড়াঁয় তার নববধু। বিষয়টি প্রথমে পারিবারিক ভাবে গড়ালেও বর্তমানে এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহলেন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই নববধু লোকলজ্জায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, গত কোরবানী ঈদে পানিবারিভাবে শরিফ নায়েকপুর ইউনিয়নে বিয়ে করে। দুই বন্ধুন দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেন্তু মিয়া শরিফের নববধুর সাথে বাসর করতে দেয়। তবে কেন্তু মিয়ার স্ত্রী বাসর ঘর করতে বাঁধা দেয়ায় শরিফ আর বাসর ঘর করতে পারেনি। শরিফ বাসর করতে না পাড়ায় দুই বন্ধুর মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

 

এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবান নোয়াগাঁও কেত্ত মিয়ান গ্রামের বাড়ি ও শরিফ মিয়ার গ্রামের বাড়িতে গেলে বৃদ্ধ দুই মাকে পাওয়া যায়।

 

এ ব্যাপার শরিফ মিয়ার মা মানেদা আক্তার জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

তবে তারাদুই জনেই ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। তারা বিয়ের আগে একট সাথে সময় কাটাতো আমায় ছেলে বিয়ে করার পর বলেছি। কেন্তু মিয়া বেশি আমার বাড়িতে আসবা না।

 

কেন্তু মিয়া তার মোবাইল ফোনে জানান, , বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। তবে দুই বন্ধুর এমন প্রতিশ্রুতির বিষয় জানতে চাইলে ফোনটি কেটে সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া জানান, ঘটনাটি সত্য। এ বিষয়ে গ্রাম বৈঠক বসা হয়ে ছিল। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।

 

প্রতিবেশি চাচা আব্দুল গণি বলেন, বাবা কিতা কইতাম। এমন সমাজ বিরোধী ঘটনা জীবনেও শুনি নাই। বউটি এখন ঢলে গেছে। জানি না আর আসবে কিনা। বিষয়টি খুবই দুঃখ ডানক।

 

তবে কেন্তু মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী জাফরিন আক্তার বলেন, শরিফ মিয়ান বউ যদি বাসর রাতে বাঁধা দিত তাহলে ঘটনা ঘটত না। এখন তিন পরিবারকে সমাজের মানুষ দিক্ষা দিচ্ছে। আমনা খুবই লজ্জিত। মানুষের নিকট মুখ দেখাতে পারি না।

 

এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি শামতুল আলম শাহ বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। তবে নববধুন পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card