১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে গোবর-গোমূত্র গবেষক পাচ্ছেন সম্মাননা, ব্যাপক বিতর্ক

 

আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

২০২২ সাল থেকে ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কামাকোটিকে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য এ বছর পদ্মশ্রী দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।

 

তবে এই সম্মাননার ঘোষণার পরপরই তার প্রাচীনপন্থি কিছু গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেয় কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট। মূলত গোবর ও গোমূত্র নিয়ে তার করা গবেষণার প্রসঙ্গ টেনেই এই কটাক্ষ করা হয়েছে।

 

পদ্মশ্রী প্রাপ্তির পর কামাকোটি তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, এই সম্মাননা তাকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে এবং এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

 

এর বিপরীতে কেরালা কংগ্রেস অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্রূপের সুরে বলে, গোমূত্র নিয়ে তথাকথিত অত্যাধুনিক গবেষণার মাধ্যমে একে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ তাকে এই সম্মান দিচ্ছে। কংগ্রেস মূলত কামাকোটির গত বছরের সেই বিতর্কিত মন্তব্যকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে গোমূত্রে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) সারাতে কার্যকর। একজন শীর্ষ বিজ্ঞানীর মুখে এমন মন্তব্য তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

 

এই বিতর্কে কামাকোটির পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তি খাতের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব ও জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। তিনি বলেন, প্রফেসর কামাকোটি মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো গভীর প্রযুক্তিগত বিষয়ে কাজ করেন এবং আইআইটি মাদ্রাজের মতো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তিনি এই সম্মান পাওয়ার পূর্ণ যোগ্য।

 

ভেম্বু আরও দাবি করেন যে, গোবর ও গোমূত্রে মূল্যবান মাইক্রোবায়োম থাকার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। যারা এর বিরোধিতা করছেন তাদের ‘ঔপনিবেশিক দাস মানসিকতা’ সম্পন্ন অভিহিত করে তিনি বলেন, হার্ভার্ড বা এমআইটি এমন গবেষণা করলে এই সমালোচকরাই একে চূড়ান্ত সত্য বলে মেনে নিতেন।

 

কংগ্রেস পাল্টা জবাবে ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছে, তিনি যদি সত্যিই এর ওষধি গুণে বিশ্বাস করেন তবে কেন তার বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি থেকে এই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? তারা মধ্যপ্রদেশ সরকারের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে দুর্নীতির অভিযোগও তোলে।

 

কংগ্রেসের দাবি, ক্যানসার গবেষণার নামে পঞ্চগব্য প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩.৫ কোটি টাকার বড় অংশই তছরুপ হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলে, যেখানে কোভিডের সময় গোবর দিয়ে ভাইরাস মারার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে কেন শুধু গোবর বা গোমূত্রেই ক্যানসার মুক্তি খোঁজা হচ্ছে? এই বাগ্যুদ্ধ এখন ভারতের বিজ্ঞানী সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কাজী নজরুলের সমাধি ফলকে লিখিত কাব্যাংশের অনুপ্রেরণা যে চিঠিতে

দল বা প্রশাসনের কেউ অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: প্রিন্স

01 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ভারতে গোবর-গোমূত্র গবেষক পাচ্ছেন সম্মাননা, ব্যাপক বিতর্ক

পোষ্টের সময় : ০৫:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

২০২২ সাল থেকে ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কামাকোটিকে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য এ বছর পদ্মশ্রী দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।

 

তবে এই সম্মাননার ঘোষণার পরপরই তার প্রাচীনপন্থি কিছু গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেয় কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট। মূলত গোবর ও গোমূত্র নিয়ে তার করা গবেষণার প্রসঙ্গ টেনেই এই কটাক্ষ করা হয়েছে।

 

পদ্মশ্রী প্রাপ্তির পর কামাকোটি তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, এই সম্মাননা তাকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে এবং এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

 

এর বিপরীতে কেরালা কংগ্রেস অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্রূপের সুরে বলে, গোমূত্র নিয়ে তথাকথিত অত্যাধুনিক গবেষণার মাধ্যমে একে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ তাকে এই সম্মান দিচ্ছে। কংগ্রেস মূলত কামাকোটির গত বছরের সেই বিতর্কিত মন্তব্যকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে গোমূত্রে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) সারাতে কার্যকর। একজন শীর্ষ বিজ্ঞানীর মুখে এমন মন্তব্য তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

 

এই বিতর্কে কামাকোটির পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তি খাতের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব ও জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। তিনি বলেন, প্রফেসর কামাকোটি মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো গভীর প্রযুক্তিগত বিষয়ে কাজ করেন এবং আইআইটি মাদ্রাজের মতো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তিনি এই সম্মান পাওয়ার পূর্ণ যোগ্য।

 

ভেম্বু আরও দাবি করেন যে, গোবর ও গোমূত্রে মূল্যবান মাইক্রোবায়োম থাকার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। যারা এর বিরোধিতা করছেন তাদের ‘ঔপনিবেশিক দাস মানসিকতা’ সম্পন্ন অভিহিত করে তিনি বলেন, হার্ভার্ড বা এমআইটি এমন গবেষণা করলে এই সমালোচকরাই একে চূড়ান্ত সত্য বলে মেনে নিতেন।

 

কংগ্রেস পাল্টা জবাবে ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছে, তিনি যদি সত্যিই এর ওষধি গুণে বিশ্বাস করেন তবে কেন তার বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি থেকে এই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? তারা মধ্যপ্রদেশ সরকারের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে দুর্নীতির অভিযোগও তোলে।

 

কংগ্রেসের দাবি, ক্যানসার গবেষণার নামে পঞ্চগব্য প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩.৫ কোটি টাকার বড় অংশই তছরুপ হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলে, যেখানে কোভিডের সময় গোবর দিয়ে ভাইরাস মারার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে কেন শুধু গোবর বা গোমূত্রেই ক্যানসার মুক্তি খোঁজা হচ্ছে? এই বাগ্যুদ্ধ এখন ভারতের বিজ্ঞানী সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

Share this news as a Photo Card