আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় বড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার, ড্রোন ও বিদেশে নির্বাচনী প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচার চালালে জেল ও জরিমানা—দুই শাস্তিই হতে পারে।
ইসি সোমবার রাতে গেজেট আকারে আচরণবিধি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া প্রতিটি দল ও প্রার্থীকে একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা এবং আচরণবিধি মানার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।
নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও থাকবে ইসির হাতে।
প্রথমবারের মতো এবার পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচারে। পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্রচারসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পলিথিন, পিভিসি, রেকসিন বা প্লাস্টিকের ব্যানার ও ফেস্টুনও নিষিদ্ধ।
এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ ব্যবহার করা যাবে না এবং আলোকসজ্জা বা বিদ্যুৎচালিত বিলবোর্ডের ব্যবহারেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকছে। প্রার্থী বা দল ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারের আগে তাদের অ্যাকাউন্ট, ইমেইল ও আইডি তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করলে সেটি নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া কোনো দল বা প্রার্থী বিদেশে গিয়ে জনসভা বা প্রচার করতে পারবে না। সরকারি পদে থাকা কেউ, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও, প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
ইসি জানিয়েছে, নতুন আচরণবিধি ২০০৮ সালের বিধিমালার সঙ্গে মিল রেখে এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















