রাশিয়ার বিমান হামলায় আবারও ইউক্রেনে প্রবীণ বেসামরিক মানুষদের প্রাণ গেল। এবার তারা টার্গেট হয়েছেন পেনশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইয়ারোভা গ্রামে এ হামলা চালায় রুশ বাহিনী। নিহতরা সবাই সাধারণ মানুষ, যারা পেনশন নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রবীণ নাগরিক। স্থানীয় প্রশাসক ভাদিম ফিলাশকিন জানান, উদ্ধারকাজ চলছে এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। কাছের শহর লিমান-এর প্রশাসক ওলেক্সান্দ্র ঝুরাভলিওভও নিশ্চিত করেছেন যে হামলার সময় পেনশন বিতরণ হচ্ছিল। ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থা (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, ইয়ারোভায় হামলার আগে দোনেৎস্ক অঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
ইয়ারোভা গ্রামটি স্লোভিয়ানস্ক শহরের উত্তরে, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রুশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ায় এ এলাকা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে ইউক্রেনীয় বেসামরিকদের ওপর অন্যতম ভয়াবহ হামলা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইয়ারোভায় হামলার ভয়াবহ ফুটেজ অনলাইনে প্রকাশ করে বলেছেন, “এই হামলার বর্ণনা দেওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই।” তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্ব নীরব থাকতে পারে না।” বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
এর আগে আগস্টের শেষ দিকে কিয়েভে রাতের আঁধারে চালানো বিমান হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন। গত সপ্তাহান্তে রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভে আকাশপথে সবচেয়ে বড় হামলা চালায়, যাতে প্রধান সরকারি ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলেনস্কি তখন এই আক্রমণকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে “নিষ্ঠুর আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছিলেন।
রুশ সেনাদের পক্ষ থেকে ইয়ারোভায় হামলা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ক্রমাগত এ ধরনের আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বেসামরিক জীবন রক্ষা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি এখন শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তথ্যসূত্র : এএফপি


























