০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে মাইন বসাচ্ছে ইরান

 

জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে সিএনএন। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

 

সূত্রগুলো জানায়, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্র বলছে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি ছোট নৌকা এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযান এখনো অক্ষত রয়েছে। এর ফলে তাদের বাহিনী অনায়াসেই এই জলপথে শত শত মাইন বসাতে সক্ষম।

 

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এখন দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে মিলে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। সিএনএন বলছে, তারা সেখানে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা মাইন বসানোর জাহাজ, বিস্ফোরকভর্তি নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে সেগুলো এখনই সরিয়ে ফেলতে হবে! যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো খবর নেই যে তারা মাইন বসিয়েছে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, যদি মাইন স্থাপন করা হয় এবং তা সরানো না হয়, তবে ইরানকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তিনি এও বলেন যে, তেহরান যদি মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে এটি হবে একটি সঠিক পদক্ষেপ।

 

ট্রাম্পের পোস্টের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালি জিম্মি করতে দেব না।

 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার রাতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ একাধিক ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। সেন্টকম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন বাহিনীকে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি নৌজাহাজ এবং মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করতে দেখা গেছে।

 

আইআরজিসি আগেই সতর্ক করেছিল যে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজ হামলার শিকার হবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই পথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। চলাচলের ঝুঁকির কারণে বর্তমান এই পথকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখনো এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করেনি, যদিও সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে তার প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

 

ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে। সেখানে আমাদের অনেক নৌজাহাজ রয়েছে। মাইন শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম রয়েছে।

 

সিএনএন জানিয়েছে যে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে কার্যত আটকা পড়ছে।

 

ইরাক ও কুয়েতের মতো উৎপাদক দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ছাড়া তেল পরিবহনের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এই পরিস্থিতিতে তেলের ঘাটতি মেটাতে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ তাদের মজুত থেকে আরও তেল বাজারে ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

 

এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহনের অনিশ্চয়তার কারণে মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৮০ ডলার থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ক্রমাগত ওঠানামা করছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

দিনভর অনশন, রাতেই নিয়োগপত্র পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক

কেন্দুয়ায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস জলাতঙ্করোধে করনীয় ও নিরাপদ মাংস নিশ্চিতকরণে কর্মসূচি

29 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে মাইন বসাচ্ছে ইরান

পোষ্টের সময় : ০১:০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

 

জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে সিএনএন। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

 

সূত্রগুলো জানায়, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্র বলছে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি ছোট নৌকা এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযান এখনো অক্ষত রয়েছে। এর ফলে তাদের বাহিনী অনায়াসেই এই জলপথে শত শত মাইন বসাতে সক্ষম।

 

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এখন দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে মিলে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। সিএনএন বলছে, তারা সেখানে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা মাইন বসানোর জাহাজ, বিস্ফোরকভর্তি নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে সেগুলো এখনই সরিয়ে ফেলতে হবে! যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো খবর নেই যে তারা মাইন বসিয়েছে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, যদি মাইন স্থাপন করা হয় এবং তা সরানো না হয়, তবে ইরানকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তিনি এও বলেন যে, তেহরান যদি মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে এটি হবে একটি সঠিক পদক্ষেপ।

 

ট্রাম্পের পোস্টের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালি জিম্মি করতে দেব না।

 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার রাতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ একাধিক ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। সেন্টকম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন বাহিনীকে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি নৌজাহাজ এবং মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করতে দেখা গেছে।

 

আইআরজিসি আগেই সতর্ক করেছিল যে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজ হামলার শিকার হবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই পথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। চলাচলের ঝুঁকির কারণে বর্তমান এই পথকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখনো এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করেনি, যদিও সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে তার প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

 

ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে। সেখানে আমাদের অনেক নৌজাহাজ রয়েছে। মাইন শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম রয়েছে।

 

সিএনএন জানিয়েছে যে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে কার্যত আটকা পড়ছে।

 

ইরাক ও কুয়েতের মতো উৎপাদক দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ছাড়া তেল পরিবহনের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এই পরিস্থিতিতে তেলের ঘাটতি মেটাতে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ তাদের মজুত থেকে আরও তেল বাজারে ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

 

এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহনের অনিশ্চয়তার কারণে মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৮০ ডলার থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ক্রমাগত ওঠানামা করছে।

 

Share this news as a Photo Card