নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ধেনকী নদীতে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার দুপুরে ধেনকী নদীর রানীগাঁও এলাকায় এই সেতুর উদ্বোধন করেন স্থানীয় লোকজন। ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের কাঠের সাঁকোটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় তিনটি ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের অনন্ত ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেংগুরা, খারনৈ ও নাজিরপুর ইউনিয়নের গোড়াগাঁও, রানীগাঁও, বালুছড়া, তারানগর, ধেনকীসহ ২১টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গাচুরা একটি কাঠের সেতু দিয়ে চলাচল করছিলেন। এখানে একটি স্থায়ী সেতুর জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু স্থায়ী সেতুর ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন গত ছয়মাস আগে স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। সম্প্রতি সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় স্থানীয় লোকজন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদ পারাপার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পরে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি জানানো হয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সেখানে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
নলছাপ্রা গ্রামের লিটন হাজং বলেন, আগে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতাম, সাঁকো পার হতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এখন মজবুদ করে কাঠের সেতু নির্মাণ হওয়ার সেই ভয় কেটে গেছে। আমরা কায়সার কামাল ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।
নলছাপ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কপোতী ঘাগ্রা বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হয়েছে। এখন আর ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ের পাঠিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হবেনা।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরা কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে গাড়ো পাহাড়ের সন্নিকটে আমাদের প্রিয় কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গাড়ো পাহাড় বিধৌত গণেশ্বরী নদীর (স্থানীয় ভাবে ঢেকনী নদী হিসাবে পরিচিত) উপর কাঠের সেতুটি আমাদের উদ্যোগে পুনঃ নির্মাণ করা হয়েছে। আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) এই সেতু সংলগ্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এর উদ্বোধন করেছে। এই সেতুর উপর দিয়ে দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুল, একটি মহিলা মাদ্রাসা এবং একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা ও শিক্ষক বৃন্দ প্রতিদিন র্নিবিঘ্নে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া চারটি মসজিদের মুসল্লীগণ এবং একটি মন্দিরের ভক্তবৃন্দসহ ২১টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। আমররা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। সীমিত যে সাধ্যের মধ্যে সুন্দর কলমাকান্দা গড়ার জন্য আপনারা আমাদের পাশে থাকুন। আমরা একসাথে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।























