৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার রেকর্ড ছুঁয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেননি। মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫২ জন, যার মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭০ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
গত ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) দেশজুড়ে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় মোট ৮টি বিভাগীয় শহরের ১৬টি কেন্দ্রে। পিএসসি জানিয়েছে, পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোথাও বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের অধীনে ৬৮৩টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা ক্যাডারের পদসংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষে এখন পিএসসি ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, কমিশন জানিয়েছে যে মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে।
বিভিন্ন পরীক্ষার্থী সূত্র জানায়, হঠাৎ সময়সূচির পরিবর্তন, কেন্দ্রের দূরত্ব এবং পরিবহন সমস্যার কারণে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া, চিকিৎসা পেশায় ব্যস্ততা ও অন্যান্য পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণেও অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক অনুপস্থিতি প্রার্থীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে অনাগ্রহ বা বিকল্প সুযোগের প্রতি আকর্ষণের ইঙ্গিত দেয়। তবে পিএসসি বলছে, পরীক্ষার সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
এই বিশেষ বিসিএস মূলত চিকিৎসা খাতে জনবল ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়। ফল প্রকাশের পর সফল প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















