ঢাকা কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বাধীনতার দাবি নিয়ে বুধবার দুপুরে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন, যেখানে ইডেন কলেজের শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ দ্রুত পাসের দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা গেটে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে দুই পক্ষকে একই সময়ে মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে ঢাকা কলেজ প্রশাসন প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশ মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। নিউমার্কেট থানার ওসি মাহফুজুল হক জানান, দুই পক্ষের মাঝখানে কেউ যেন উসকানি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্যই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদিকে ইডেন বাঁচাও রক্ষা পরিষদের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসের দপ্তর ঘেরাও করে অবস্থান নেয়।
অধ্যাদেশের দাবিতে আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বঞ্চনার প্রতিবাদে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক হওয়ার পর সরকার নতুন করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি কাঠামো তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেড় বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনি অভিযোগ করেন—কিছু শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোতে যুক্ত হতে অনাগ্রহী হওয়ায় সমস্যা জটিল হচ্ছে।
তার ভাষায়, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু শিক্ষকরা একই সময়ে বিক্ষোভ ডেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আমরা কোনো উসকানিতে পা দেব না।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।
স্টাফ রিপোর্টার 


























