ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও ধাওয়ার মুখে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও নীলদল ঘনিষ্ঠ শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিন। তার সঙ্গে থাকা একই বিভাগের নীলদলপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক জিনাত হুদাকেও তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে উঠে সরে যেতে হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ঘটনাটি ঘটলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিন দুপুরে আ ক ম জামাল, জিনাত হুদাসহ পাঁচজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে বৈঠকে বসেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। প্রায় দুপুর ১টার দিকে জামাল উদ্দিন ভবন থেকে বের হতেই ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দৌড়ে ভবনের নিচে নেমে রাস্তায় চলে আসেন এবং দ্রুত প্রস্তুতকৃত একটি প্রাইভেট কারে উঠে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। জিনাত হুদাও একইভাবে গাড়িতে উঠে সরে যান।
ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান জানান, পাঁচজন নীলদলীয় শিক্ষক গোপনে বৈঠক করছিলেন এবং ছাত্ররা তা জানতে পেরে তাদের ঘেরাও করে। অভিযোগ উঠে, তারা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি ও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা করছিলেন।
এবি জুবায়ের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, জামাল উদ্দিন ও জিনাত হুদাসহ পাঁচজন শিক্ষক ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা ক্যাম্পাসে এসে গোপন বৈঠকে অংশ নিলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আগে থেকেই প্রস্তুত গাড়িতে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। তিনি আরও দাবি করেন, এই শিক্ষকরা অতীতে সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তদের সহযোগী এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস–পরীক্ষা বর্জন করে রেখেছেন।
জুবায়ের প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনিদের সহযোগীদের ক্যাম্পাসে জায়গা দেওয়া যাবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্টাফ রিপোর্টার 




















