যশোর শিক্ষা বোর্ডে চমকপ্রদ তথ্য—এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা মোট ২০ কলেজকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তাদের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে বাতিল পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি পাঠদানের অনুমতিও প্রত্যাহারের আওতায় আসবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়—যশোর বোর্ডের ৫৭৫টি কলেজের মধ্যে ২০টির পরীক্ষার্থী একজনও পাস করতে পারেননি। পাসের হার হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে বোর্ড। শোকজ নোটিশে কারণ ব্যাখ্যা করে জানাতে বলা হয়েছে ঠিক কোথায় সমস্যা হয়েছে—শিক্ষক সংকট, প্রস্তুতির অভাব, নাকি তদারকিতে গাফিলতি।
বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুরের গাংনীতে বিএন কলেজসহ খুলনা, মাগুরা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও নড়াইলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও সবাই ফেল করেছে। কোথাও ৫ জন, কোথাও ৩৫ জন—কেউই পাসেনি। যেমন—নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সুলাইমান ইনস্টিটিউটে ৩৫ জন, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজে ৯ জন, বাগেরহাটের সিংজোর গোপালপুর কলেজে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ ফেল করে।
যশোর বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়ামত এলাহী জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই ২০ কলেজের অধ্যক্ষকে শোকজ পাঠানো হয়েছে। তারা কারণ উল্লেখ করে জবাব দিলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে স্বীকৃতি স্থগিত, বাতিল অথবা পাঠদান বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের লজ্জাজনক পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন জেলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। শিক্ষা–শেখার পরিবেশ উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিততা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন জোরদার করা হবে।
শোকজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আব্দুল মতিন কোনও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 


























