১২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

 

রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় মামলার দুই আসামিই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয়। যথাযথ শাস্তি না দিলে ব্যর্থ হবে আদালত।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

 

রায় ঘোষণার আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে সোহেলকে এজলাসে নেওয়া হয় ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পড়তে দেখা যায় তাকে।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় আসামিদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান তারা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

 

গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন।

 

গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ফুলপুরে ব্র্যাক সিডের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

প্রকৃতির বর্তমান বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্য মানুষই দায়ী: ইউএনও জুবায়ের

07 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

পোষ্টের সময় : ১১:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

 

রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় মামলার দুই আসামিই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয়। যথাযথ শাস্তি না দিলে ব্যর্থ হবে আদালত।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

 

রায় ঘোষণার আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে সোহেলকে এজলাসে নেওয়া হয় ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পড়তে দেখা যায় তাকে।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় আসামিদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান তারা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

 

গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন।

 

গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card