১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খামেনি

 

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে দাফন করা হয়েছে। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার এ তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

 

১৯৩৯ সালে মাশহাদেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন খামেনি। মৃত্যুর পরও একই শহরে তার শেষ ঠিকানা হলো।

 

দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তার মেজো ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি।

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি।

 

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী খামেনি। এর আগে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

 

দাফনের আগে খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক অতিক্রম করে ইমাম রেজার মাজারে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরিহিত লাখো শোকাহত মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।

 

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে খামেনির চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোস্তফা, সেজো ছেলে মাসুদ এবং ছোট ছেলে মেইসাম উপস্থিত ছিলেন। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো শোক অনুষ্ঠানেই অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি।

 

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: রয়টার্স।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আয়োজনে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা

নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দুয়ায় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

09 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নিজের জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খামেনি

পোষ্টের সময় : ০৬:৪১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে দাফন করা হয়েছে। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার এ তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

 

১৯৩৯ সালে মাশহাদেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন খামেনি। মৃত্যুর পরও একই শহরে তার শেষ ঠিকানা হলো।

 

দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তার মেজো ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি।

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি।

 

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী খামেনি। এর আগে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

 

দাফনের আগে খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক অতিক্রম করে ইমাম রেজার মাজারে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরিহিত লাখো শোকাহত মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।

 

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে খামেনির চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোস্তফা, সেজো ছেলে মাসুদ এবং ছোট ছেলে মেইসাম উপস্থিত ছিলেন। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো শোক অনুষ্ঠানেই অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি।

 

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: রয়টার্স।

 

Share this news as a Photo Card