ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা সম্পদ (এজেন্ট) হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে একটি সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরবর্তী সময়েও বিদেশ সফরের সময় তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। এমনকি তার আবাসন ও ভ্রমণ ব্যয়ও গোপনে বহন করা হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় আহমেদিনেজাদকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি গোপন অভিযান চালানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
একসময় কট্টর ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত আহমেদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা শুরু করেন, নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে অবস্থান নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ২০১৭ সাল থেকেই আহমেদিনেজাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দিহান ছিল। চলতি বছরের সংঘাতের পর তার বিরুদ্ধে তদন্তে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























