ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্যবসায়ী সাদির মিয়াকে (৪০) কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার সাদিরের ছোট ভাই মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শান্ত পন্ডিত সহ নাম উল্লেখ ৫ জন ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে।
জানা গেছে, সাদির মিয়ার বাড়ি উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। চার বছর আগে সাদিরের ছোট ভাই হযরত মিয়া ৩০ হাজার টাকা ধার দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শান্ত পন্ডিতকে। এরমধ্যে শান্ত ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা নিয়ে কালক্ষেপণ করছিল। গত ১৫ জুলাই হযরত তার ১৫ হাজার পাওনা টাকা শান্তর কাছে ফেরত চাইলে দুজনের মধ্যে কথাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে শান্ত ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় হযরতের দোকানে হামলা চালায়। এসময় দোকানে হযরতকে না পেয়ে সাদিরকে বসে থাকতে দেখে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে সাদিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে সাদিরের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার রাত ও শনিবার দুপুরে পৌর শহরের বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
আহত সাদিরের বড় ভাই আব্দুর কাদির জানান, গত ১৫ জুলাই শান্তর কাছে হযরত তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে দুজনের কথাকাটি হয়। এর জের ধরে শান্ত তার দলবল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হযরতের দোকানে হামলা চালায়। কিন্ত হযরত দোকানে না থাকায় সাদিরকে কুপিয়ে আহত করে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত শান্ত পন্ডিত বলেন, হযরত মিয়া আমার কাছে টাকা পায় এটা সত্য। তবে তার ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় আমি জড়িত নই।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ব্যবসায়ী সাদির মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শান্ত সহ নাম উল্লেখ ৫ জন অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে ।

গৌরীপুর প্রতিনিধি 




















