বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের লাগাতার আক্রমণের মুখে একাই যেন আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে রেকর্ড ১০টি সেভ করেন তিনি। তবে ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। বল দখল, পাসিং ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে তারা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমার্ধে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল ও কুকুরেয়ার একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দেন মার্টিনেজ। বিরতিতে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখে স্পেন, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পরও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বায়েনার শট সহজেই তালুবন্দি করেন মার্টিনেজ। পরে ওলমো, ফেরান তোরেস, পেদ্রি, ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও লাপোর্তের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা আক্রমণে ছিল পুরোপুরি নিষ্প্রভ। ম্যাচের প্রথম ৭০ মিনিট পর্যন্ত তারা লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল এক পরিসংখ্যান।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে আবারও দলকে রক্ষা করেন মার্টিনেজ। এরপর কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দল নিয়ে শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিকও দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতা বজায় থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের আধিপত্যের বিপরীতে মার্টিনেজের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই আর্জেন্টিনাকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে।

স্পোর্টস ডেস্ক 

























