ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এই জয়ের পর শুধু স্পেনেই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ সংকট ও যুদ্ধের কারণে অনেক এলাকায় বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। ম্যাচ শেষে স্পেনের জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই গাজার বিভিন্ন এলাকায় উৎসব শুরু হয়। শিশু-কিশোর ও তরুণরা স্পেন ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন।
স্পেনের এই বিশ্বজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কাছে পাঠানো বার্তায় তিনি এ অর্জনকে বিশ্ব ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে হামাসও। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈম বলেন, যোগ্য দল হিসেবেই স্পেন শিরোপা জিতেছে এবং তাদের এই সাফল্যে গাজাবাসীও আনন্দ ভাগাভাগি করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও মানুষ আনন্দ মিছিল করছে। অনেকের মতে, এই সমর্থন শুধু ফুটবলের জন্য নয়; ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থানের প্রতিও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুস শহরেও স্পেনের জয়ে উৎসব পালন করা হয়। ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালের একটি বিশেষ কার্টুন প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা সংকট নিয়ে স্পেনের অবস্থান এবং ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্পেনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব আরও দৃঢ় হয়েছে। সে কারণেই বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ফিলিস্তিনেও বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























